Skip to main content

এক বেলার আহার সবজির বাহার

দই-বেগুন

উপকরণ: বড় গোল বেগুন আধা কেজি, গোল মরিচ গুঁড়া এক চিমটির একটু বেশি, হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ, ভাজা জিরার গুঁড়া আধা চা-চামচ, রসুন বাটা ১ চা-চামচ, সরিষার তেল আধা কাপের একটু কম, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ বাটা পোয়া কাপ, ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া পোয়া চা-চামচ, টক দই আধা কাপ, লাল মরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, ধনে গুঁড়া আধা চা-চামচ, আদা বাটা ১ চা-চামচ, লবণ দেড় চা-চামচ, চিনি ২ চা-চামচ, কাঁচা মরিচ ফালি ৪টি।

দই বেগুন রেসিপির ছবি


প্রণালি: বেগুন কেটে পোয়া চা-চামচ লবণ ছিটিয়ে মেখে রেখে দিন। ২০ মিনিট পর কয়েকবার ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এবার বেগুনে পোয়া চা-চামচ হলুদ গুঁড়া ও পোয়া চা-চামচ লবণ ছিটিয়ে দিন। এবার ফ্রাইপ্যানে দুই পিঠ ভেজে তুলে নিন। 
বেগুন, কাঁচা মরিচ ফালি, লেবুর রস, অর্ধেক জিরার ফাঁকি, তেল ও ধনেপাতা কুচি বাদে অন্য সব উপকরণ ও টক দই একত্রে মিশিয়ে ফেটে নিন। ফ্রাইপ্যানে পোয়া কাপ সরষের তেল গরম করে পেঁয়াজ বাটা দিয়ে ভেজে নিয়ে টক দইয়ের মিশ্রণ দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। কয়েকবার ফুটে উঠলে পোয়া চা-চামচ জিরার ফাঁকি, লেবুর রস ও কাঁচা মরিচ ফালি দিয়ে আঁচ কমিয়ে দিন। সামান্য তেল ছেড়ে দিলে বেগুনের ওপর রান্না করা দইয়ের মিশ্রণ ঢেলে ওপরে অবশিষ্ট জিরার ফাঁকি এবং ধনেপাতা কুচি ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।


সবজির কোরমা

উপকরণ: মাখন ১ কাপ, দেশি পেঁয়াজ কুচি ৩টি, রসুন কুচি (বড়) ৩ কোয়া, আদা ঝুরি (১ ইঞ্চি) ১ টুকরা, জিরার গুঁড়া ১ চা-চামচ, ধনে গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, ছোট এলাচ ৬টি, দারুচিনি (২ ইঞ্চি টুকরা) ১টি, বড় আলু ১টি, মাশরুম কুচি দেড় কাপ, পানি ১ কাপ, ফ্রেঞ্চ বিনস (১ ইঞ্চি টুকরো করে কাটা) ১১৫ গ্রাম, গরম মসলার গুঁড়া ১ চা-চামচ, টক দই ৫ টেবিল চামচ, ক্রিম ৪ টেবিল চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা-চামচ, লবণ ২ চা-চামচ অথবা স্বাদ অনুযায়ী। কাঁচা মরিচ ৪টি, মটরশুঁটি আধা কাপ, বাঁধাকপি দেড় কাপ, গাজর ২টি, ফুলকপি (ছোট) ১টি, পেঁয়াজ বাটা ৪ টেবিল চামচ, নারকেলের দুধ আধা কাপ, তেজপাতা ২টি।
সবজির কোরমার ছবি

প্রণালি: সবজি ধুয়ে কুটে বেছে আলাদা আলাদা পাত্রে রাখুন। কড়াইয়ে মাখন গলিয়ে তেজপাতা ও গরম মসলার ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজ কুচি বাদামি করে ভেজে পেঁয়াজ বাটা দিয়ে কষিয়ে নিন। এবারে আদা-রসুন কুচি দিয়ে তিন-চার মিনিট ভেজে জিরা ও ধনে গুঁড়ো দিয়ে নারকেলের দুধ ঢেলে কষিয়ে নিন। এতে প্রথমে আলু ও গাজরে আধা কাপ পানি দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে নিন। তরপর ফুলকপি ও মটরশুঁটি এবং মাশরুম দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে ফ্রেঞ্চ বিনস দিয়ে নেড়ে আঁচ বাড়িয়ে ঢেকে দিন। সবজি সেদ্ধ হয়ে এলে টকদই ফেটে দিয়ে দিন। লবণ দিয়ে নেড়ে ঢেকে দিন। পাঁচ-সাত মিনিট পর ঢাকনা খুলে বাকি আধা কাপ পানি দিয়ে কড়া আঁচে রান্না করুন। মাখা হলে বাঁধাকপি ঝুরি, ক্রিম ও কাঁচা মরিচ দিয়ে মিশিয়ে নেড়ে আঁচ কমিয়ে ঢেকে দিন। সাত-আট মিনিট পর ঢাকনা খুলে ভালোভাবে নেড়ে ঢেকে দিন। চুলা বন্ধ করে ১০ মিনিট দমে রেখে পরিবেশন করুন গরম গরম সবজির কোরমা।


মেয়োনেজ সবজির সালাদ

উপকরণ: বাঁধাকপি ঝুরি ২ কাপ, লেটুস ১ আঁটি, টমেটো (জুলিয়ান কাট) ২টি, জলপাই তেল ২ টেবিল চামচ, লাল মরিচ গুঁড়া (চিলি ফ্লেকস) আধা চা-চামচ, লবণ ১ চা-চামচ, লেবুর রস ২ টেবিল চামচ, গাজর ঝুরি ১ কাপ, শসা কুচি ১টি, রসুন কুচি ২ টেবিল চামচ, সাদা তিল (ভাজা) ১ চা-চামচ, মেয়োনেজ ৪ টেবিল চামচ, পুদিনাপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, সরিষা গুঁড়া পোয়া চা-চামচ।
সবজির সালাদ এর ছবি

প্রণালি: সবজি পরিষ্কার করে ধুয়ে বেছে ঝুরি করে ঝাঁঝরিতে রাখুন। পানি ঝরে গেলে সব সবজি বাটিতে নিয়ে তাতে তিল, জলপাই তেল ও রসুন কুচি ছাড়া অন্য সব উপকরণ দিয়ে মিশিয়ে মেখে নিন। ফ্রাইপ্যানে ২ টেবিল চামচ জলপাই তেল গরম করে রসুন কুচি বাদামি করে ভেজে এটি সালাদে ঢেলে মেখে নিন। পরিবেশন পাত্রের চারপাশে লেটুসপাতাগুলো বিছিয়ে দিন। এবার পাতার ওপরে সালাদ বেড়ে ওপর থেকে ভেজে রাখা সাদা তিল ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।


ফুলকপির মালাইকারি

উপকরণ: ফুলকপি ১টি, কাঁটা মরিচ ২টি, তেঁতুলের ক্বাথ ১ টেবিল চামচ, রসুন (বড়) ২ কোয়া, নারকেলের দুধ দেড় কাপ, লবণ ১ চা-চামচ অথবা স্বাদ অনুযায়ী, পেঁয়াজ কুচি করা ২টি, তেল ৪ টেবিল চামচ, মাঝারি টমেটো ২টি, হলুদ গুঁড়ো আধা চা-চামচ, চিনি দেড় চা-চামচ।
ফুলকপির মালাইকারি এর ছবি

প্রণালি: ফুলকপি পরিষ্কার করে প্রতিটি ফুল আলাদা করে মাঝখান দিয়ে কেটে দুই টুকরো করে নিন। টমেটো ধুয়ে আধা ইঞ্চি টুকরা করে কুচি করে নিন। পেঁয়াজ কুচি, রসুন, কাঁচা মরিচ ও হলুদ গুঁড়ো একত্রে মিশিয়ে পাটায় মসৃণ করে পিষে নিন। কড়াইয়ে ২ টেবিল চামচ তেল গরম করে ফুলকপিগুলো হালকা ভেজে উঠিয়ে রাখুন। এবারে বাকি তেল গরম করে মসলার মিশ্রণ ঢেলে ভালো করে কষিয়ে নিন। তেল ছাড়া শুরু করলে আধা কাপ নারকেলের দুধ দিয়ে আরও কিছুক্ষণ কষিয়ে ফুলকপিগুলো দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নেড়ে মাঝারি আঁচে ঢেকে দিন। ফুলকপির গায়ে মসলা ভালো করে লাগলে বাকি ১ কাপ নারকেলের দুধ দিয়ে আঁচ বাড়িয়ে নেড়ে ঢেকে দিন। কয়েকবার ফুটে উঠলে ঢাকনা খুলে সিকি কাপ পানি দিয়ে নেড়ে লবণ ও চিনি দিয়ে মাঝারি আঁচে পাঁচ মিনিট রান্না করুন। এরপর তেঁতুলের ক্বাথ ও টমেটো কুচি দিয়ে নেড়ে দু-তিন মিনিট চুলায় রেখে নেড়ে আঁচ কমিয়ে ঢেকে দিন। পাঁচ মিনিট দমে রেখে পরিবেশন করুন ফুলকপির মালাইকারি।


সবজি বিরিয়ানি

উপকরণ: বাসমতী চাল ২ কাপ, ছোট আলু ১২টি, গাজর ২টি (চৌকো করে কাটা), ফুলকপির ফুল ১২টি, লবণ দেড় টেবিল চামচের একটু বেশি, কালো এলাচ ১টি, দারুচিনি ১টি, আদা রসুন বাটা ৩ চা-চামচ, গোলাপ জল আধা টেবিল চামচ, জাফরান পোয়া চা-চামচ, শাহি বিরিয়ানি মসলা দেড় চা-চামচ, জর্দার রং পোয়া চা-চামচ, ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, পানি ১২ কাপ, দেশি পেঁয়াজ (মিহি কুচি) বড় ২টি, ফ্রেঞ্চ বিনস (১ ইঞ্চি লম্বা কোনা করে কাটা) ১৫টি, মটরশুঁটি ১ কাপ, ছোট এলাচ ৪টি, লবঙ্গ ৫টি, তেজপাতা ১টি, টক দই দেড় কাপ, কেওড়া জল দেড় টেবিল চামচ, টমেটো বাটা ১ কাপ, তেল পৌনে এক কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, পুদিনাপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ।

শাহি বিনিয়ানি মসলা: বড় (কালো) এলাচ, ছোট এলাচ, লবঙ্গ, জায়ফল, জয়ত্রী, শাহজিরা, সাদা গোল মরিচ, তেজপাতা, দারুচিনি ও শুকনা মরিচ সমপরিমাণ। সব মসলা আলাদাভাবে টেলে ঠান্ডা করে মচমচে হলে পাটায় মিহি গুঁড়া করে নিন।
সবজি বিরিয়ানী এর ছবি

প্রণালি: চাল ঝেড়ে বেছে ধুয়ে দুই ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে পানি ঝরিয়ে নিন। গোলাপজল ও কেওড়াজলের সঙ্গে জাফরান ভিজিয়ে ঢেকে রাখুন। পেঁয়াজ বেরেস্তা করে উঠিয়ে রাখুন। একই তেলে আলু বাদে অন্যান্য সবজি ১ চা-চামচ লবণ দিয়ে ভেজে নিয়ে টমেটো বাটা দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। সবজি সেদ্ধ হয়ে এলে ১ টেবিল চামচ ঘি দিয়ে নেড়ে নামিয়ে রাখুন। 
অন্য একটি কড়াইয়ে আলুর সঙ্গে এক চিমটি জর্দার রং ও আধা চা-চামচ লবণ মিশিয়ে পরিমাণমতো পানি দিয়ে চুলায় বসান। পানি একেবারে টেনে গেলে ১ টেবিল চামচ ঘি দিয়ে নেড়ে ঢেকে দিন।  বাটিতে টক দইয়ের সঙ্গে বাকি লবণ, সব গুঁড়া ও বাটা মসলা, আধা চা-চামচ বেরেস্তা গুঁড়া, অর্ধেক জাফরান দিয়ে মিশিয়ে ভালো করে ফেটে নিন। এতে আলু ও সব কষানো সবজি দিয়ে একত্রে মিশিয়ে দুই-তিন ঘণ্টা মেখে রেখে দিন। ১২ কাপ পানিতে দেড় টেবিল চামচ লবণ দিয়ে ফুটাতে দিন। একটি সাদা সুতি কাপড়ের টুকরো ধুয়ে নিয়ে তাতে গোটা লবঙ্গ, বড় এলাচ, ছোট এলাচ, দারুচিনি ও তেজপাতা টুকরো করে পুটলি বেঁধে পানিতে ফেলে দিন। পানি ফুটে উঠলে চাল দিয়ে নেড়ে দিন। ভাত পুরো সেদ্ধ করবেন না। মাড় গেলে একটি স্টিলের ট্রেতে ভাতগুলো বেড়ে ছড়িয়ে দিয়ে ফ্যানের নিচে রাখুন। ২ কাপ মাড় আলাদা রাখুন। একটি সসপ্যানে কিছুটা পানি ফুটাতে দিন। বিরিয়ানি রান্নার হাঁড়িতে ১ টেবিল চামচ তেল ব্রাশ করে নিয়ে প্রথমে কিছু সবজি ও ভাত ছিটিয়ে তার ওপর সবজি বিছিয়ে দিন। কয়েক স্তরে এভাবে সাজিয়ে অর্ধেক জাফরান ও অর্ধেক বেরেস্তা ছিটিয়ে দিয়ে এক চিমটি জর্দার রং দিয়ে বাকি ভেজানো জাফরান ও বেরেস্তা ছিটিয়ে দিন। এবার ২ কাপ মাড় সবজির মিশ্রণের বোল ধুয়ে তা বিরিয়ানির ওপর চারপাশ থেকে ঢেলে দিন। এবার ঢেকে দিয়ে প্রথমে ফুটন্ত পানির সসপ্যানের ওপর বসিয়ে কড়া আঁচে ১৫ মিনিট রাখুন। তারপর পাশের চুলায় কড়া আঁচে বিরিয়ানির হাঁড়ি বসিয়ে ফুটন্ত পানির সসপ্যানটি তার ওপর বসিয়ে একটি মাপমতো ঢাকনা দিয়ে ওপরে শিল চাপা দিয়ে রাখুন। ১৫ মিনিট পর আঁচ কমিয়ে দিয়ে আরও ১০ মিনিট রাখুন। চুলা বন্ধ করে পাঁচ-সাত মিনিট দমে রেখে ঢাকনা খুলে বড় হাতা বা নাশতার প্লেট দিয়ে ওপর-নিচ করে কেটে দিন। পাঁচ মিনিট ঢেকে রাখুন। এরপর পরিবেশন করুন গরম গরম সবজির বিরিয়ানি।




Comments

Popular posts from this blog

মাটির পণ্যের খোঁজে

বাংলা নববর্ষের আগে আগে বাঙালিয়ানা আমেজের ছোঁয়া এখন সব জায়গায়। সব জায়গাতেই চোখে পড়ছে বৈশাখের নানা সামগ্রী। পয়লা বৈশাখের দিনটিতে নিজের বাড়ি সাজিয়ে তুলতে পারেন দেশি উপকরণের ছোঁয়ায়। নানা রকম মাটির সরা, শখের হাঁড়ি, বিভিন্ন আকারের মাটির কলসি, ছোট খেলনা, ফুলদানি, সানকি ইত্যাদি এখন প্রায় সব জায়গাতেই পাওয়া যাচ্ছে। মাটির এসব জিনিসপত্রে নকশা আঁকা হয় বর্ণিল রঙে। কোনো হাঁড়িতে ফুল-কল্কে আঁকা, কোনো সরায় মাছ, হাতির ছবি আঁকা—এমন পণ্য ঘরটাকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারে। পয়লা বৈশাখে খাবার পরিবেশন করা যেতে পারে মাটির থালা-বাটিতে। আবার ঘরের কোণে ঠাঁই পেতে পারে মাটির রঙিন কলসি, ফুলদানি ইত্যাদি। এ ছাড়া মাটির গয়না পাওয়া যাচ্ছে এখন। যেখানে পাবেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের উল্টো দিকে রয়েছে মাটির নানা পণ্যের দোকান। সারা বছর এ দোকানগুলোতে কেনাকাটা চললেও বৈশাখের আগে আগে কেনাবেচা বেশি হয়ে থাকে। দোকানগুলোতে মাটির সানকি পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। ২৫০ টাকার মধ্যে মাটির পাতিল পাওয়া যাবে। নকশা আঁকা পাতিলের দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত গড়াতে পারে। কলসির দাম পড়বে ১৫০ থেকে ৩৫০ ...

বসন্ত উৎসব-২০১৭

বসন্তের সমীরণে ফাল্গুনের প্রথম দিনে পুরো ঢাকা শহর সাজে ফাগুন সাজে। হলুদ, কমলা ও বাসন্তী রঙ্গের ছোঁয়া সবার মধ্যে।  যে যার মতো করে এই দিনে ঘুরতে বের হন। কারও সঙ্গে পরিবার বা বন্ধুবান্ধব।  নগরজুড়েও থাকে নানা আয়োজন। প্রতি বছরের মতো এ বছরও বসন্তেকে বরণ করা হবে নানা আয়োজনে। বসন্ত উৎসব জাতীয় বসন্ত উদযাপন পরিষদ দুই দশক ধরে পয়লা ফাল্গুনে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করে আসছে।  বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ফুল ও ছবির প্রদর্শনী, পোশাক, সাজসজ্জা ও দেশজ সংস্কৃতির পরিবেশনার মাধ্যমে বসন্তকে স্বাগত জানানো হয়। ভোরের আলো ফুটতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মূখরিত হতে লাগল হাজার প্রাণের স্পন্দনে।  সূর্যি মামার দেখা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দলে দলে মানুষজন জড়ো হতে লাগল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকল অনুষদের বকুলতলায়। সবাই যে একসঙ্গে বসন্তকে বরণ করবে। বাসন্তী রঙ্গের শাড়িতে মেয়েরা আর ছেলেরা পাঞ্জাবিতে।  দেখলেই মন ভালো যায় এমন দৃশ্য। 

মিষ্টি কুমড়োর যত উপকারিতা

সুগারের পেশেন্ট? এই খেতে ভয়, ওই খাবারে বারণ? চোখ বুজে মিষ্টি কুমড়ো খান। হার্টের রোগ থেকে ডায়াবেটিস, মিষ্টি কুমড়ো কাজ করে ম্যাজিকের মতো। হজমের শক্তি বাড়ায়। ত্বক রাখে টানটান। কমিয়ে দেয় বয়স। মিষ্টি কুমড়োয় রয়েছে প্রচুর ভিটামিন A, ভিটামিন C, ভিটামিন E, বি-কমপ্লেক্স। বিটাক্যারোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, জিঙ্ক, আলফা হাইড্রক্সাইড, আয়রন, ফ্লেভনয়েড, লিউটিন সমৃদ্ধ মিষ্টি কুমড়ো।  ১. ভিটামিন A, বিটাক্যারোটিন চোখের জন্য খুব ভাল।  রেটিনার বিভিন্ন অসুখ প্রতিরোধ করে মিষ্টি কুমড়ো। ২. বিটাক্যারোটিন শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডন্ট। শরীরের ফ্রি রেডিক্যাল ড্যামেজ প্রতিরোধ করে।  বিভিন্ন দূষণ, স্ট্রেস ও খাবারে যেসব কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর উপাদান থাকে, সেগুলোর কারণে ফ্রি রেডিক্যাল ড্যামেজ হতে শুরু করে। শরীরের কোষ নষ্ট হতে শুরু করে। খারাপ কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে।  এসব প্রতিরোধ করে মিষ্টি কুমড়ো। ৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যানসার প্রতিরোধ করে। কোলেস্টেরল কমায়। ধমনীর দেওয়ালে চর্বির স্তর জমতে বাধা দেয়।  ফলে, মিষ্টি কুমড়ো নিয়মিত খেলে হার্টের রোগ প্রতিরোধ করে। ৪. মিষ্...

স্বচ্ছ জলে সবুজ বনে

ভরা বর্ষায় কোথায় যাওয়া যায়—শুনেই সিলেটের বন্ধু, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেরে আলম আমন্ত্রণ জানালেন সিলেটে যাওয়ার। জানালেন আবহাওয়াও চমৎকার। ২৮ জুলাই রাতে সিলেটের বাসে উঠলাম স্ত্রী আইরিন আসাদকে নিয়ে। সকালে গিয়ে পৌঁছালাম। থাকার ঠিকানা সিলেট সার্কিট হাউসে। জানালা দিয়ে সুরমা নদীতে চোখ রাখতেই দেখি ঝিরঝিরি বৃষ্টি। মনটা কিছুটা দমে গেলেও আশা ছাড়লাম না। কিছুক্ষণ পরে বৃষ্টি থেমে গেলে মেঘলা আকাশ সঙ্গে নিয়েই যাত্রা শুরু করলাম বিছনাকান্দি আর পাংতুমাই ঝরনার দিকে। সঙ্গী হলেন আরাফাত হোসেন। সিলেট শহর থেকে অটোরিকশায় বিছনাকান্দি যাওয়ার রাস্তাটা এতটাই খারাপ যে কিছুক্ষণ পরপর বিরক্তি লাগছিল। দেড় ঘণ্টার পথ পেরোনোর পরে ট্রলার ভাড়া করার সময় দেখলাম, মাথার ওপর সূর্য! আকাশও বেশ ঝকঝকে। পিয়াইন এলাকা থেকে নৌকা যাত্রা শুরু করল পাংতুমাই ঝরনার দিকে। ভরা বর্ষায় চারদিকে থইথই পানি। পাংতুমাই যাওয়ার পথে পথে রাখাল আর গরু-মহিষের পাল দেখা যায়। কোথাও কোথাও রাজহাঁসের পালও। ক্রমেই পাহাড়ের দিকে এগোতে থাকল নৌকা। দূর থেকে দেখতে কালো পাহাড় আস্তে আস্তে সবুজ হতে থাকল। ঘণ্টা খানেকের পথ শেষে দূর থেকে দেখা যেতে থাকল প...

বেল নাকি তরমুজ? কোনটি খাবেন?

এ সময় তেষ্টা পেলেই পান করছেন বেল না তরমুজের রস।  দুটো ফলই সুস্বাদু।  দেখে নিন কোনটার কী গুণাগুণ। বেল উপকারিতা  ঃ * বেলের শরবত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। * ক্লান্তি দূর করে। * পাইলস রোগের জন্য বেল অনেক উপকারী। * বেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ করে। * নিয়মিত বেল খেলে কোলন ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। * বেলে রয়েছে ভিটামিন এ, যা চোখের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অঙ্গগুলোর পুষ্টি জোগায়। * বেল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। * বেলের শাঁস পিচ্ছিল ধরনের, যা পাকস্থলীর জন্য উপকার। * বেল থেকে পাওয়া বেটা ক্যারোটিন রঞ্জক মানবদেহের টিউমার কোষের বৃদ্ধি রোধ করে। অপকারিতা  ঃ  যাদের থাইরয়েড রয়েছে, তাদের বেল খাওয়া উচিত নয়, এতে ক্ষতি হয়। চিকিৎসকেরা অন্তঃস্বত্বাদেরও অনেক সময় বেল খেতে নিষেধ করেন। খাদ্য উপাদান পানি ৫৪.৯৬-৬১.৫ গ্রাম আমিষ ১.৮-২.৬২ গ্রাম ক্যারোটিন ৫৫ মিলিগ্রাম থায়ামিন ০.১৩ মিলিগ্রাম রিবোফ্লেবিন ১.১৯ মিলিগ্রাম নিয়াসিন ১.১ মিলিগ্রাম টারটারিক অ্যাসিড ২.১১ মিলিগ্রাম ফসফরাস ৫০ ...