Skip to main content

Posts

Showing posts with the label ভ্রমন

স্বচ্ছ জলে সবুজ বনে

ভরা বর্ষায় কোথায় যাওয়া যায়—শুনেই সিলেটের বন্ধু, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেরে আলম আমন্ত্রণ জানালেন সিলেটে যাওয়ার। জানালেন আবহাওয়াও চমৎকার। ২৮ জুলাই রাতে সিলেটের বাসে উঠলাম স্ত্রী আইরিন আসাদকে নিয়ে। সকালে গিয়ে পৌঁছালাম। থাকার ঠিকানা সিলেট সার্কিট হাউসে। জানালা দিয়ে সুরমা নদীতে চোখ রাখতেই দেখি ঝিরঝিরি বৃষ্টি। মনটা কিছুটা দমে গেলেও আশা ছাড়লাম না। কিছুক্ষণ পরে বৃষ্টি থেমে গেলে মেঘলা আকাশ সঙ্গে নিয়েই যাত্রা শুরু করলাম বিছনাকান্দি আর পাংতুমাই ঝরনার দিকে। সঙ্গী হলেন আরাফাত হোসেন। সিলেট শহর থেকে অটোরিকশায় বিছনাকান্দি যাওয়ার রাস্তাটা এতটাই খারাপ যে কিছুক্ষণ পরপর বিরক্তি লাগছিল। দেড় ঘণ্টার পথ পেরোনোর পরে ট্রলার ভাড়া করার সময় দেখলাম, মাথার ওপর সূর্য! আকাশও বেশ ঝকঝকে। পিয়াইন এলাকা থেকে নৌকা যাত্রা শুরু করল পাংতুমাই ঝরনার দিকে। ভরা বর্ষায় চারদিকে থইথই পানি। পাংতুমাই যাওয়ার পথে পথে রাখাল আর গরু-মহিষের পাল দেখা যায়। কোথাও কোথাও রাজহাঁসের পালও। ক্রমেই পাহাড়ের দিকে এগোতে থাকল নৌকা। দূর থেকে দেখতে কালো পাহাড় আস্তে আস্তে সবুজ হতে থাকল। ঘণ্টা খানেকের পথ শেষে দূর থেকে দেখা যেতে থাকল প...

সোনাদিয়ার সৈকতে

মা টির সরু পথ চলে গেছে ম্যানগ্রোভ বনের ভেতর দিয়ে, থেমেছে বঙ্গোপসাগরের কূলে।  সোনাদিয়া সৈকতের উদ্দেশে মহেশখালীর ঘটিভাঙ্গা থেকে আমাদের যাত্রা। এই প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার সময় বারবার মনে হলো, সাগরবুকের ছোট্ট সুন্দর এই জায়গাটি যেন বাকি ভূখণ্ড থেকে আলাদা। তিন-তিনটি সাগর চ্যানেলের ওপর দুটি সেতু ও একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে জোড়াতালি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে একে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে।   সোনাদিয়া সৈকতের নীল স্বচ্ছ জলরাশি ইনানী, সেন্টমার্টিন—এই দুই সৈকতের কথা তো অনেকেরই জানা। তবে শান্ত- নিরিবিলি সোনাদিয়া সৈকত চেনেন কম মানুষই। সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে বেশ কিছুকাল থেকে।    এখানে আসতে হলে অবশ্য একটু প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।  জোয়ার থাকলে নৌকায় করেও যাওয়া যায়। তবে হেঁটে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কেননা, প্যারাবনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় দুই চোখ ভরে যাবে অসাধারণ সব দৃশ্য দেখে।  সাগর চ্যানেলে জেলেদের মাছ ধরা, ছোট ছোট নালাসমৃদ্ধ বনের সৌন্দর্য এবং সে বনের নুনিয়া, সাদা, কালো বাইনসহ নানা ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ আপনাকে মুগ্ধ করবে।  ভাটা...

ঘুরে আসি ভাটির দেশে

ভাটির দেশ হওয়ায় আমাদের দেশে হাওর-বাঁওড়ের শেষ নেই। তবে সবচেয়ে বেশি বিল-হাওর দেখা যায় বৃহত্তর সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে। বর্ষা আর শুষ্ক মৌসুমে এগুলোর রূপ একেবারেই আলাদা। দেশে আয়তনের দিক থেকে বিশাল কয়েকটি হাওরের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওর এবং মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওর। টাঙ্গুয়ার হাওর বাংলাদেশের সীমান্তে সুনামগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত টাঙ্গুয়ার হাওরটি উদ্ভিদ, মাছ, পাখিসহ জীববৈচিত্র্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। টাঙ্গুয়ার হাওরে যাওয়ার পথে কাছাকাছি দূরত্বে আছে শনির হাওর। একসঙ্গে দুটি হাওরই দেখা সম্ভব। টাঙ্গুয়ার হাওরে যাওয়ার জন্য সরাসরি কোনো পথ নেই। বর্ষায় নৌপথই ভরসা। আর শুষ্ক মৌসুমে তাহিরপুর বাজার পর্যন্ত মোটরবাইক। তারপর হাওর পর্যন্ত ইঞ্জিনচালিত নৌকা। পথে কয়েকটি ছোট নদীও পার হতে হয়। তাহিরপুর বাজার থেকে দুই-তিনটি খাল ও বৌলাই নদী হয়ে মূল হাওরের কাছে যেতে হয়।  গোলাবাড়ী ক্যাম্পের কাছে আছে কয়েকটি ঘর নিয়ে ছোট্ট একটি বসতি। দুই পাশের দৃশ্য মনোরম। সারিবদ্ধ হিজল, করচের গাছ এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অদূরেই মেঘ...

কর্ণফুলীর ঢেউয়ের তালে...

বিকেল শেষ হতে চলল। নীল আকাশে রক্তিম আভা। হেলে পড়ছে সূর্য। বিদায়ের সব আয়োজন পূর্ণ। শুধু ডুব দেওয়া বাকি। এর মধ্যে বেজে উঠল নৌযানের হুইসেল। নোঙর তুললেন নাবিক। কর্ণফুলীর বুক চিরে ছুটে চলল জলযান ‘ওয়েস্টার্ন ক্রুজ’। বন্দর নগরে বিনোদনের এ এক নতুন মাধ্যম। সুর আর জাদুর মায়ায় নৌভ্রমণ। কর্ণফুলীতে তখন ভাটার টান। মাথার ওপর গাঙচিলের ওড়াউড়ি। কল কল শব্দের ঢেউয়ের গুঞ্জন। সোনালি রোদে জলের খেলা। মোহনায় নোঙর করা ভিনদেশি জাহাজের সারি। মাঝে মাঝে দেখা যাচ্ছে সাম্পানও। কিছুদূর যেতেই পাশ দিয়ে সিংহের দর্পে ছুটে গেল বিশাল জাহাজ। দুলে ওঠে তরী। আরও এগোতে বাড়ে ঢেউয়ের নাচন। উথাল-পাথাল ঢেউয়ের তালে চেনা কর্ণফুলী যেন মেলে ধরছে নতুন রূপ।  কর্ণফুলী নদীর সারি সারি জাহাজের দৃশ্য ভাবনায় ডুবে যাওয়া মনে ছেদ পড়ল জাদুকর রাজীব বসাকের ডাকে। ডেক থেকে নামতে নামতেই দ্বিতীয় তলার হল রুমের আসনগুলো ততক্ষণে ভরে গেছে। মন ভোলানো জাদুতে সবাই আচ্ছন্ন। বাচ্চারা তো মহাখুশি। এক একটা জাদু শেষ করার পর কমতি হচ্ছে না হাততালিতেও। জাদুপর্ব শেষে রুপালি গিটারের সুর তুললেন গায়ক আরিফ। সুরের খেয়ায় পর্যটকদের নিয়ে...