মাটির সরু পথ চলে গেছে ম্যানগ্রোভ বনের ভেতর দিয়ে, থেমেছে বঙ্গোপসাগরের কূলে। সোনাদিয়া সৈকতের উদ্দেশে মহেশখালীর ঘটিভাঙ্গা থেকে আমাদের যাত্রা। এই প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার সময় বারবার মনে হলো, সাগরবুকের ছোট্ট সুন্দর এই জায়গাটি যেন বাকি ভূখণ্ড থেকে আলাদা। তিন-তিনটি সাগর চ্যানেলের ওপর দুটি সেতু ও একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে জোড়াতালি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে একে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে।
![]() |
| সোনাদিয়া সৈকতের নীল স্বচ্ছ জলরাশি |
ইনানী, সেন্টমার্টিন—এই দুই সৈকতের কথা তো অনেকেরই জানা। তবে শান্ত- নিরিবিলি সোনাদিয়া সৈকত চেনেন কম মানুষই। সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে বেশ কিছুকাল থেকে। এখানে আসতে হলে অবশ্য একটু প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। জোয়ার থাকলে নৌকায় করেও যাওয়া যায়। তবে হেঁটে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কেননা, প্যারাবনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় দুই চোখ ভরে যাবে অসাধারণ সব দৃশ্য দেখে। সাগর চ্যানেলে জেলেদের মাছ ধরা, ছোট ছোট নালাসমৃদ্ধ বনের সৌন্দর্য এবং সে বনের নুনিয়া, সাদা, কালো বাইনসহ নানা ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ আপনাকে মুগ্ধ করবে। ভাটার সময় দেখতে পাবেন নালায় মাছ কুড়ানোর দৃশ্য আর বনের মধ্যে মহিষের পাল চরে বেড়ানো। বন পার হলেই ঠিক সোনাদিয়ার আগে চোখে পড়ে বিশাল এক লবণখেত। লবণচাষিদের সঙ্গে কথা বলা শেষে যখন আমরা পৌঁছালাম সোনাদিয়ার সৈকতে, হাঁটার ক্লান্তি উবে গেল যেন নিমেষে।
![]() |
| সোনাদিয়ার সৈকতে লাল কাঁকড়ার বিচরণ |
যেভাবে যাবেন
কক্সবাজার এসে পরের দিন খুব সকালে বেরিয়ে পড়ুন কিছু শুকনা খাবার সঙ্গে নিয়ে। শহরের ৬ নম্বর ঘাট থেকে স্পিডবোটে মহেশখালীর গোরকঘাটা যাওয়া যায়। মহেশখালী গোরকঘাট থেকে মিশুক (টমটম) কিংবা অটোরিকশায় যেতে হবে ঘটিভাঙ্গা। তারপর হাঁটা আরম্ভ করুন অথবা নৌকা ঠিক করে নিন। জেনে রাখুন, সোনাদিয়ায় থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। তাই দিনে দিনে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিয়েই বের হওয়া ভালো। এ ছাড়া কক্সবাজার থেকে স্পিডবোটে করেও দেখে আসতে পারেন সোনাদিয়ার সৌন্দর্য।

