Skip to main content

কর্ণফুলীর ঢেউয়ের তালে...


বিকেল শেষ হতে চলল। নীল আকাশে রক্তিম আভা। হেলে পড়ছে সূর্য। বিদায়ের সব আয়োজন পূর্ণ। শুধু ডুব দেওয়া বাকি। এর মধ্যে বেজে উঠল নৌযানের হুইসেল। নোঙর তুললেন নাবিক। কর্ণফুলীর বুক চিরে ছুটে চলল জলযান ‘ওয়েস্টার্ন ক্রুজ’। বন্দর নগরে বিনোদনের এ এক নতুন মাধ্যম। সুর আর জাদুর মায়ায় নৌভ্রমণ।

কর্ণফুলীতে তখন ভাটার টান। মাথার ওপর গাঙচিলের ওড়াউড়ি। কল কল শব্দের ঢেউয়ের গুঞ্জন। সোনালি রোদে জলের খেলা। মোহনায় নোঙর করা ভিনদেশি জাহাজের সারি। মাঝে মাঝে দেখা যাচ্ছে সাম্পানও। কিছুদূর যেতেই পাশ দিয়ে সিংহের দর্পে ছুটে গেল বিশাল জাহাজ। দুলে ওঠে তরী। আরও এগোতে বাড়ে ঢেউয়ের নাচন। উথাল-পাথাল ঢেউয়ের তালে চেনা কর্ণফুলী যেন মেলে ধরছে নতুন রূপ। 
The image of Kanaphuli
কর্ণফুলী নদীর সারি সারি জাহাজের দৃশ্য

ভাবনায় ডুবে যাওয়া মনে ছেদ পড়ল জাদুকর রাজীব বসাকের ডাকে। ডেক থেকে নামতে নামতেই দ্বিতীয় তলার হল রুমের আসনগুলো ততক্ষণে ভরে গেছে। মন ভোলানো জাদুতে সবাই আচ্ছন্ন। বাচ্চারা তো মহাখুশি। এক একটা জাদু শেষ করার পর কমতি হচ্ছে না হাততালিতেও। জাদুপর্ব শেষে রুপালি গিটারের সুর তুললেন গায়ক আরিফ। সুরের খেয়ায় পর্যটকদের নিয়ে গেলেন অন্য রকম এক সন্ধ্যায়। গানে গানে সন্ধ্যা যে গড়িয়ে যাচ্ছে সে খেয়াল ছিল না। তড়িঘড়ি উঠে এলাম ডেকে। উজান থেকে তখন ভাটির পথ ধরেছে নৌযান।
ফেরার দৃশ্যটা অভাবনীয়। জাহাজের ছোট ছোট বিন্দু বাতি যেন ঘিরে রেখেছে কর্ণফুলী। আকাশের সব তারা আজ কর্ণফুলীর বুকে। কাফকো জেটি আলো ছড়িয়ে জানান দিচ্ছে তার অবস্থান। ওপাশে নেভাল একাডেমি। ধীরে ধীরে নৌযান এগিয়ে যাচ্ছে বন্দর জেটির দিকে। হলুদ বাতির আলোয় রাঙা জেটিতে তখনো কর্মব্যস্ততা। নোঙর করা জাহাজ থেকে নামছে কনটেইনার, পণ্য। জেটির রাঙা ছায়ায় বদলে গেল যেন কর্ণফুলীর পানির রংও। চারদিক হলুদ। পর্যটকদের প্রায় সবাই তখন ডেকে। হাওয়ায় দুলে উপভোগ করছেন রাতের রূপসী কর্ণফুলী। আগেও কয়েকবার নৌভ্রমণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে সেগুলো ছিল সন্ধ্যার আগেই কূলে ফেরা। রাতের এ দৃশ্য একেবারেই নতুন, অন্য রকম। 

জানা গেল, ২০০ জনের ধারণক্ষমতার ওয়েস্টার্ন মেরিন সার্ভিসের এ নৌযান পানিতে ভাসে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর থেকেই বেশ সাড়া পাচ্ছে তারা। এখানে সভা-সেমিনার, পার্টি করারও ব্যবস্থা রয়েছে। চাইলে সারা দিনের জন্য ভাড়া নিতে পারেন এটি। তখন ঘণ্টা হিসেবে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া জাহাজে রয়েছে গিফট শপ, কিডস্ কর্নার, ফুড জোন ও ম্যাজিক কর্নার। এত কিছু হবে আর তা ফ্রেমে বন্দী থাকবে না তা কি হয়? সে ব্যবস্থাও আছে। চাইলে ছবি তুলতে পারবেন পর্যটকেরা। অবশ্য এ জন্য আলাদা টাকা লাগবে। 

The image of Karnaphuli River
কর্ণফুলী নদীর রাতের দৃশ্য

ওয়েস্টার্ন ক্রুজের ব্যবস্থাপক ওসমান গণি বলেন, ‘কর্ণফুলী ভ্রমণে আধুনিক এ প্রমোদতরী এখন পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। দিন দিন বাড়ছে আমাদের অতিথি। বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকেরা এলে তো অভিভূত হয়ে যান।’ওসমান গণির সঙ্গে কথার ফাঁকে গড়িয়ে যায় সময়। ফেরার পথ ধরি আমরা। আবার বোট ক্লাবের জেটিতে নোঙর। তবে এবার ভ্রমণের ঝুলিতে অনেক সুখময় স্মৃতি আর মুগ্ধতার আবেশ ছড়ানো দৃশ্যপট।

জেনে নিন 

ওয়েস্টার্ন ক্রুজে সপ্তাহে দুই দিন—শুক্র ও শনিবার নৌবিহারের ব্যবস্থা রয়েছে। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে সাড়ে ছয়টার ভ্রমণে জনপ্রতি খরচ এক হাজার টাকা। এর সঙ্গে থাকবে হালকা নাশতা। আর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে সাড়ে নয়টার ভ্রমণে জনপ্রতি খরচ এক হাজার ৫০০ টাকা। সঙ্গে রাতের খাবার। তবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য টিকিট লাগবে না। জাহাজে উঠতে হবে বিমানবন্দর সড়কের চট্টগ্রাম বোট ক্লাব থেকে। 

Popular posts from this blog

মাটির পণ্যের খোঁজে

বাংলা নববর্ষের আগে আগে বাঙালিয়ানা আমেজের ছোঁয়া এখন সব জায়গায়। সব জায়গাতেই চোখে পড়ছে বৈশাখের নানা সামগ্রী। পয়লা বৈশাখের দিনটিতে নিজের বাড়ি সাজিয়ে তুলতে পারেন দেশি উপকরণের ছোঁয়ায়। নানা রকম মাটির সরা, শখের হাঁড়ি, বিভিন্ন আকারের মাটির কলসি, ছোট খেলনা, ফুলদানি, সানকি ইত্যাদি এখন প্রায় সব জায়গাতেই পাওয়া যাচ্ছে। মাটির এসব জিনিসপত্রে নকশা আঁকা হয় বর্ণিল রঙে। কোনো হাঁড়িতে ফুল-কল্কে আঁকা, কোনো সরায় মাছ, হাতির ছবি আঁকা—এমন পণ্য ঘরটাকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারে। পয়লা বৈশাখে খাবার পরিবেশন করা যেতে পারে মাটির থালা-বাটিতে। আবার ঘরের কোণে ঠাঁই পেতে পারে মাটির রঙিন কলসি, ফুলদানি ইত্যাদি। এ ছাড়া মাটির গয়না পাওয়া যাচ্ছে এখন। যেখানে পাবেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের উল্টো দিকে রয়েছে মাটির নানা পণ্যের দোকান। সারা বছর এ দোকানগুলোতে কেনাকাটা চললেও বৈশাখের আগে আগে কেনাবেচা বেশি হয়ে থাকে। দোকানগুলোতে মাটির সানকি পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। ২৫০ টাকার মধ্যে মাটির পাতিল পাওয়া যাবে। নকশা আঁকা পাতিলের দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত গড়াতে পারে। কলসির দাম পড়বে ১৫০ থেকে ৩৫০ ...

বসন্ত উৎসব-২০১৭

বসন্তের সমীরণে ফাল্গুনের প্রথম দিনে পুরো ঢাকা শহর সাজে ফাগুন সাজে। হলুদ, কমলা ও বাসন্তী রঙ্গের ছোঁয়া সবার মধ্যে।  যে যার মতো করে এই দিনে ঘুরতে বের হন। কারও সঙ্গে পরিবার বা বন্ধুবান্ধব।  নগরজুড়েও থাকে নানা আয়োজন। প্রতি বছরের মতো এ বছরও বসন্তেকে বরণ করা হবে নানা আয়োজনে। বসন্ত উৎসব জাতীয় বসন্ত উদযাপন পরিষদ দুই দশক ধরে পয়লা ফাল্গুনে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করে আসছে।  বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ফুল ও ছবির প্রদর্শনী, পোশাক, সাজসজ্জা ও দেশজ সংস্কৃতির পরিবেশনার মাধ্যমে বসন্তকে স্বাগত জানানো হয়। ভোরের আলো ফুটতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মূখরিত হতে লাগল হাজার প্রাণের স্পন্দনে।  সূর্যি মামার দেখা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দলে দলে মানুষজন জড়ো হতে লাগল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকল অনুষদের বকুলতলায়। সবাই যে একসঙ্গে বসন্তকে বরণ করবে। বাসন্তী রঙ্গের শাড়িতে মেয়েরা আর ছেলেরা পাঞ্জাবিতে।  দেখলেই মন ভালো যায় এমন দৃশ্য। 

মিষ্টি কুমড়োর যত উপকারিতা

সুগারের পেশেন্ট? এই খেতে ভয়, ওই খাবারে বারণ? চোখ বুজে মিষ্টি কুমড়ো খান। হার্টের রোগ থেকে ডায়াবেটিস, মিষ্টি কুমড়ো কাজ করে ম্যাজিকের মতো। হজমের শক্তি বাড়ায়। ত্বক রাখে টানটান। কমিয়ে দেয় বয়স। মিষ্টি কুমড়োয় রয়েছে প্রচুর ভিটামিন A, ভিটামিন C, ভিটামিন E, বি-কমপ্লেক্স। বিটাক্যারোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, জিঙ্ক, আলফা হাইড্রক্সাইড, আয়রন, ফ্লেভনয়েড, লিউটিন সমৃদ্ধ মিষ্টি কুমড়ো।  ১. ভিটামিন A, বিটাক্যারোটিন চোখের জন্য খুব ভাল।  রেটিনার বিভিন্ন অসুখ প্রতিরোধ করে মিষ্টি কুমড়ো। ২. বিটাক্যারোটিন শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডন্ট। শরীরের ফ্রি রেডিক্যাল ড্যামেজ প্রতিরোধ করে।  বিভিন্ন দূষণ, স্ট্রেস ও খাবারে যেসব কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর উপাদান থাকে, সেগুলোর কারণে ফ্রি রেডিক্যাল ড্যামেজ হতে শুরু করে। শরীরের কোষ নষ্ট হতে শুরু করে। খারাপ কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে।  এসব প্রতিরোধ করে মিষ্টি কুমড়ো। ৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যানসার প্রতিরোধ করে। কোলেস্টেরল কমায়। ধমনীর দেওয়ালে চর্বির স্তর জমতে বাধা দেয়।  ফলে, মিষ্টি কুমড়ো নিয়মিত খেলে হার্টের রোগ প্রতিরোধ করে। ৪. মিষ্...

স্বচ্ছ জলে সবুজ বনে

ভরা বর্ষায় কোথায় যাওয়া যায়—শুনেই সিলেটের বন্ধু, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেরে আলম আমন্ত্রণ জানালেন সিলেটে যাওয়ার। জানালেন আবহাওয়াও চমৎকার। ২৮ জুলাই রাতে সিলেটের বাসে উঠলাম স্ত্রী আইরিন আসাদকে নিয়ে। সকালে গিয়ে পৌঁছালাম। থাকার ঠিকানা সিলেট সার্কিট হাউসে। জানালা দিয়ে সুরমা নদীতে চোখ রাখতেই দেখি ঝিরঝিরি বৃষ্টি। মনটা কিছুটা দমে গেলেও আশা ছাড়লাম না। কিছুক্ষণ পরে বৃষ্টি থেমে গেলে মেঘলা আকাশ সঙ্গে নিয়েই যাত্রা শুরু করলাম বিছনাকান্দি আর পাংতুমাই ঝরনার দিকে। সঙ্গী হলেন আরাফাত হোসেন। সিলেট শহর থেকে অটোরিকশায় বিছনাকান্দি যাওয়ার রাস্তাটা এতটাই খারাপ যে কিছুক্ষণ পরপর বিরক্তি লাগছিল। দেড় ঘণ্টার পথ পেরোনোর পরে ট্রলার ভাড়া করার সময় দেখলাম, মাথার ওপর সূর্য! আকাশও বেশ ঝকঝকে। পিয়াইন এলাকা থেকে নৌকা যাত্রা শুরু করল পাংতুমাই ঝরনার দিকে। ভরা বর্ষায় চারদিকে থইথই পানি। পাংতুমাই যাওয়ার পথে পথে রাখাল আর গরু-মহিষের পাল দেখা যায়। কোথাও কোথাও রাজহাঁসের পালও। ক্রমেই পাহাড়ের দিকে এগোতে থাকল নৌকা। দূর থেকে দেখতে কালো পাহাড় আস্তে আস্তে সবুজ হতে থাকল। ঘণ্টা খানেকের পথ শেষে দূর থেকে দেখা যেতে থাকল প...

বেল নাকি তরমুজ? কোনটি খাবেন?

এ সময় তেষ্টা পেলেই পান করছেন বেল না তরমুজের রস।  দুটো ফলই সুস্বাদু।  দেখে নিন কোনটার কী গুণাগুণ। বেল উপকারিতা  ঃ * বেলের শরবত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। * ক্লান্তি দূর করে। * পাইলস রোগের জন্য বেল অনেক উপকারী। * বেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ করে। * নিয়মিত বেল খেলে কোলন ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। * বেলে রয়েছে ভিটামিন এ, যা চোখের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অঙ্গগুলোর পুষ্টি জোগায়। * বেল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। * বেলের শাঁস পিচ্ছিল ধরনের, যা পাকস্থলীর জন্য উপকার। * বেল থেকে পাওয়া বেটা ক্যারোটিন রঞ্জক মানবদেহের টিউমার কোষের বৃদ্ধি রোধ করে। অপকারিতা  ঃ  যাদের থাইরয়েড রয়েছে, তাদের বেল খাওয়া উচিত নয়, এতে ক্ষতি হয়। চিকিৎসকেরা অন্তঃস্বত্বাদেরও অনেক সময় বেল খেতে নিষেধ করেন। খাদ্য উপাদান পানি ৫৪.৯৬-৬১.৫ গ্রাম আমিষ ১.৮-২.৬২ গ্রাম ক্যারোটিন ৫৫ মিলিগ্রাম থায়ামিন ০.১৩ মিলিগ্রাম রিবোফ্লেবিন ১.১৯ মিলিগ্রাম নিয়াসিন ১.১ মিলিগ্রাম টারটারিক অ্যাসিড ২.১১ মিলিগ্রাম ফসফরাস ৫০ ...