Skip to main content

বাধা-বিপত্তি তোমাকেই টপকাতে হবে: শচীন টেন্ডুলকার


বাধা-বিপত্তি তোমাকেই টপকাতে হবে: শচীন টেন্ডুলকার

ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকারের জন্ম ভারতে, ১৯৭৩ সালের ২৪ এপ্রিল। টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে ‘১০০ সেঞ্চুরি’র মালিক তিনি; এই দুই ধরনের খেলায় রান করেছেন ৩৪ হাজারেরও বেশি। ওয়ানডে ক্রিকেটে একমাত্র দ্বিশতক রানের রেকর্ডটিও তাঁর। সম্প্রতি ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন এই ক্রিকেট-বিস্ময়।

আমি ২৩ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছি। তার পরও আমি প্রতিবছরই নতুন থেকে নতুন কিছু শিখছি। গত বছর সবাই আমার শততম শতকের দিকেই নজর দিয়েছিল। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্য সেটা ছিল না; দলকে জেতানোর জন্য আমার সব সময়ের লক্ষ্য ছিল রানের জন্য, বড় ধরনের রানের পাহাড় তৈরি করা। অতীতের মতোই দলের জন্য সেঞ্চুরি করা।
আমি সব সময় আমার কোচ রমাকান্ত আচরেকারের কথা স্মরণ করি। তাঁর কথা ছিল, খেলার মাঠের পরিস্থিতি যেকোনো সময় কঠিন আকার ধারণ করতে পারে। সেই কঠিন সময় নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছুই নেই। তোমাকে তোমার মতো করে খেলে যেতে হবে। খারাপ সময় একসময় চলে যাবেই। যাত্রাপথে তোমার সব বাধা তোমাকেই নিজে থেকে টপকে জয় করতে হবে।
স্কুলজীবন থেকে আমি অনেক কিছু শিখে চলেছি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘খেলাকে ভালোবাসা’। আর খেলার মাঠে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো খেলার বাইরের কিছু নিয়ে চিন্তা না করা। সব সময়ই বলের ওপর মনোযোগ দিতে হবে, কে কী বলল তাতে মনোযোগ দেওয়া বোকামি। নিজের আবেগকে ধরে রাখতে হবে। তোমাকেই তোমার কঠিন সময়কে মোকাবিলা করতে হবে। তোমাকে যারা উৎসাহিত করে, যাদের কাজ তোমার জন্য অনুকরণীয়, তাদের অনুসরণ করতে পারো।
Sachin Tendulkar Picture

আমার প্রথম সেঞ্চুরির কথা সব সময়ই মনে পড়ে। দলের যখন ১১৮ রানে চার উইকেট, তখন আমি মাঠে নামি। তখন আমার লক্ষ্য ছিল আউট না হয়ে মাঠে টিকে থাকা। আমি সতর্কতার সঙ্গে বল নির্বাচন করে খেলতে শুরু করি। ধীরগতিতে খেলতে থাকি। আমি ঠান্ডা মেজাজে খেলতে থাকি। আমি প্রথম সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাই। আমি পেছনে ফিরে না তাকিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাই; যার ফলেই শুরু হয় আমার রোমাঞ্চিত ক্রিকেট-জীবন।


শততম শতকের দ্বারপ্রান্তে এসেও আমি একই মনোযোগ দিয়ে খেলতে থাকি। দেখে-শুনে বল খেলতে শুরু করি। কিন্তু আমার লক্ষ্য সেঞ্চুরিকে ছাড়িয়ে দলের রান বাড়ানোর দিকে ছিল। আমি ক্রিজের অপর প্রান্তের ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলিকে নিয়ে দলীয় পার্টনারশিপের দিকে মনোযোগ দিই। কিন্তু সেই সময়ই প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ দলের বোলাররা সত্যিকারের কঠিন বোলিং শুরু করে। আমার মনে পড়ে, ব্যাটিং পাওয়ার প্লের সময় বোলার মাশরাফি মর্তুজা আমাকে একটি মেডেন ওভার বোলিং করে, কোনো রানই ছিল না সে ওভারে। আমি তার বল বুঝে তিনটি ভালো শট খেলি কিন্তু ফিল্ডাররা বলগুলো ধরে ফেলে। আমি নিজের ওপর বিশ্বাস রাখি। কারণ, অন্য কোনো এক ভালো দিনে এ তিনটি শট নির্ঘাত তিনটি বাউন্ডারিই হতো। খেলার মাঠে মাথা ঠান্ডা রাখা আমাদের এটাই শিক্ষা দেয়, কখনো কখনো নিজের অজান্তেই ব্যাটের কানায় বল লেগে উইকেটের পেছন দিয়ে বল বাউন্ডারি স্পর্শ করে; আবার ভালো ব্যাটিং করেও তিনটি সম্ভাব্য চার ফিল্ডারের হাতে বাধা পায়। অবশেষে আমি লক্ষ্যে পৌঁছাই সেই কাঙ্ক্ষিত শতকের ঘরে। শততম শতক! আমি প্রতিক্রিয়া হিসেবে আমার ব্যাটের দিকে তাকাই এবং আকাশে স্রষ্টার পানে তাকাই। মনে মনে বলি, আমার কঠিন যাত্রা অবশেষে শেষ হলো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আমার শততম সেঞ্চুরির দেখা মিলল। আমি শিহরিত হয়ে ড্রেসিংরুমের দিকে তাকাই, আমার ব্যাট তাদের পানে তুলে ধরি। আমার কাঠের ব্যাটটি আমার দেশের পতাকার দিকেও তুলে ধরি। আমার দীর্ঘ অভিযাত্রায় আমার দেশ ও জাতি সবাই এই গৌরবের অংশ।
দীর্ঘ ২৩ বছর ক্রিকেট খেললেও গত বছর ছিল ভিন্ন রকম। গত বছরে শততম শতক অর্জনের দিকে আমার কোনোই লক্ষ্য ছিল না। লক্ষ্য ও প্রত্যয় ছিল একটাই—বিশ্বকাপ জেতা।
অন্যরা আমার নামে কী বলে, আমার সমালোচনা আমি তা কখনোই গুরুত্ব দিই না। আমি খেলতে পছন্দ করি। কারণ, আমি ক্রিকেটকে ভালোবাসি। কেউ আমাকে জোর করে খেলতে ডাকেনি; আমি স্বেচ্ছায় এসেছি এই ভুবনে। অন্যদের মতামত থাকতেই পারে; সে হিসেবে প্রতিবছরই আমার পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত জমা হয়। আমি আমার জন্য প্রয়োজনীয় মতামত, যা আমাকে উৎসাহ দেয়, তাকেই শুধু গুরুত্ব দিই। অনেক সমালোচক টিভির সামনে বসে মতামত দিতে পছন্দ করেন। ওই সমালোচকেরা জানেন না, খেলার মাঠে আমার মনে কী কাজ করছিল, আমার শরীরের কী অবস্থা ছিল। এ জন্যই আমি তাঁদের থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করি। আমার পরিবার ও বন্ধুরা এ ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করে। সাধারণ মানুষ আমার জন্য প্রার্থনা করে। আমি যেন শততম শতক অর্জন করি, এ জন্য তাদের উৎসাহ থাকত আমার সঙ্গে সব সময়। আমি এসব সাধারণ মানুষের আবেগের মূল্য দিই। তাদের আগ্রহ ও প্রেরণা আমার কাছে অমূল্য। এ জন্যই বোধ হয় আমি শততম সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছি।
২৩ বছরের ক্রিকেটীয় জীবনে সব সময় আমি ক্রিকেটকে ভালোবেসেছি। ২০ বছর আগে আমার মানসিক অবস্থা ছিল এখনকার সময় থেকে ভিন্ন। ১৭ বছরের তরুণ বয়সে আমি যা করতে পারতাম, তা এই বয়সে এসেও করতে পারি। পানি দিয়ে ভরা অর্ধপূর্ণ গ্লাসকে আমি ‘পানিপূর্ণ’ হিসেবেই দেখি, ‘পানিশূন্য’ নয়। এটা নির্ভর করে প্রত্যেকের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। আমি সব সময়ই আশাবাদীদের দলে। যখন তুমি পরিশ্রম করবে, তখন তার ফলাফল এমনিতেই দেখতে পারবে।
২০০৩ সালে দলের কোচ জন রাইট আমাকে বিশ্বকাপের সময় কিছু কথা বলেছিলেন। জনের মনে হয়েছিল, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমিই প্রথম শততম সেঞ্চুরি করতে পারি। সে আমাকে সব সময়ই উৎসাহ দিয়ে যেত। কোচের কাছ থেকে প্রত্যেক ক্রিকেটার এটাই প্রত্যাশা করে। কোচের প্রধান কাজ হলো ক্রিকেটারদের মানসিক দৃঢ়তাকে উৎসাহ দিয়ে তার মনোবল বৃদ্ধি করা। আমার জীবনের দুটি বড় স্বপ্ন ছিল ভারতের হয়ে ক্রিকেট খেলা এবং বিশ্বকাপ জয় করা, কাপটিকে ছুঁয়ে দেখা। আমার স্বপ্নগুলো সত্যিই বাস্তবায়িত হয়েছে। সবার উৎসাহ ও আমার উদ্দীপনার কারণেই আমার দীর্ঘ ক্রিকেটীয় জীবনের অভিযাত্রা অবশেষে আরও আলোকিত হয়েছে।

Comments

Popular posts from this blog

মাটির পণ্যের খোঁজে

বাংলা নববর্ষের আগে আগে বাঙালিয়ানা আমেজের ছোঁয়া এখন সব জায়গায়। সব জায়গাতেই চোখে পড়ছে বৈশাখের নানা সামগ্রী। পয়লা বৈশাখের দিনটিতে নিজের বাড়ি সাজিয়ে তুলতে পারেন দেশি উপকরণের ছোঁয়ায়। নানা রকম মাটির সরা, শখের হাঁড়ি, বিভিন্ন আকারের মাটির কলসি, ছোট খেলনা, ফুলদানি, সানকি ইত্যাদি এখন প্রায় সব জায়গাতেই পাওয়া যাচ্ছে। মাটির এসব জিনিসপত্রে নকশা আঁকা হয় বর্ণিল রঙে। কোনো হাঁড়িতে ফুল-কল্কে আঁকা, কোনো সরায় মাছ, হাতির ছবি আঁকা—এমন পণ্য ঘরটাকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারে। পয়লা বৈশাখে খাবার পরিবেশন করা যেতে পারে মাটির থালা-বাটিতে। আবার ঘরের কোণে ঠাঁই পেতে পারে মাটির রঙিন কলসি, ফুলদানি ইত্যাদি। এ ছাড়া মাটির গয়না পাওয়া যাচ্ছে এখন। যেখানে পাবেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের উল্টো দিকে রয়েছে মাটির নানা পণ্যের দোকান। সারা বছর এ দোকানগুলোতে কেনাকাটা চললেও বৈশাখের আগে আগে কেনাবেচা বেশি হয়ে থাকে। দোকানগুলোতে মাটির সানকি পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। ২৫০ টাকার মধ্যে মাটির পাতিল পাওয়া যাবে। নকশা আঁকা পাতিলের দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত গড়াতে পারে। কলসির দাম পড়বে ১৫০ থেকে ৩৫০ ...

বসন্ত উৎসব-২০১৭

বসন্তের সমীরণে ফাল্গুনের প্রথম দিনে পুরো ঢাকা শহর সাজে ফাগুন সাজে। হলুদ, কমলা ও বাসন্তী রঙ্গের ছোঁয়া সবার মধ্যে।  যে যার মতো করে এই দিনে ঘুরতে বের হন। কারও সঙ্গে পরিবার বা বন্ধুবান্ধব।  নগরজুড়েও থাকে নানা আয়োজন। প্রতি বছরের মতো এ বছরও বসন্তেকে বরণ করা হবে নানা আয়োজনে। বসন্ত উৎসব জাতীয় বসন্ত উদযাপন পরিষদ দুই দশক ধরে পয়লা ফাল্গুনে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করে আসছে।  বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ফুল ও ছবির প্রদর্শনী, পোশাক, সাজসজ্জা ও দেশজ সংস্কৃতির পরিবেশনার মাধ্যমে বসন্তকে স্বাগত জানানো হয়। ভোরের আলো ফুটতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মূখরিত হতে লাগল হাজার প্রাণের স্পন্দনে।  সূর্যি মামার দেখা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দলে দলে মানুষজন জড়ো হতে লাগল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকল অনুষদের বকুলতলায়। সবাই যে একসঙ্গে বসন্তকে বরণ করবে। বাসন্তী রঙ্গের শাড়িতে মেয়েরা আর ছেলেরা পাঞ্জাবিতে।  দেখলেই মন ভালো যায় এমন দৃশ্য। 

মিষ্টি কুমড়োর যত উপকারিতা

সুগারের পেশেন্ট? এই খেতে ভয়, ওই খাবারে বারণ? চোখ বুজে মিষ্টি কুমড়ো খান। হার্টের রোগ থেকে ডায়াবেটিস, মিষ্টি কুমড়ো কাজ করে ম্যাজিকের মতো। হজমের শক্তি বাড়ায়। ত্বক রাখে টানটান। কমিয়ে দেয় বয়স। মিষ্টি কুমড়োয় রয়েছে প্রচুর ভিটামিন A, ভিটামিন C, ভিটামিন E, বি-কমপ্লেক্স। বিটাক্যারোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, জিঙ্ক, আলফা হাইড্রক্সাইড, আয়রন, ফ্লেভনয়েড, লিউটিন সমৃদ্ধ মিষ্টি কুমড়ো।  ১. ভিটামিন A, বিটাক্যারোটিন চোখের জন্য খুব ভাল।  রেটিনার বিভিন্ন অসুখ প্রতিরোধ করে মিষ্টি কুমড়ো। ২. বিটাক্যারোটিন শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডন্ট। শরীরের ফ্রি রেডিক্যাল ড্যামেজ প্রতিরোধ করে।  বিভিন্ন দূষণ, স্ট্রেস ও খাবারে যেসব কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর উপাদান থাকে, সেগুলোর কারণে ফ্রি রেডিক্যাল ড্যামেজ হতে শুরু করে। শরীরের কোষ নষ্ট হতে শুরু করে। খারাপ কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে।  এসব প্রতিরোধ করে মিষ্টি কুমড়ো। ৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যানসার প্রতিরোধ করে। কোলেস্টেরল কমায়। ধমনীর দেওয়ালে চর্বির স্তর জমতে বাধা দেয়।  ফলে, মিষ্টি কুমড়ো নিয়মিত খেলে হার্টের রোগ প্রতিরোধ করে। ৪. মিষ্...

স্বচ্ছ জলে সবুজ বনে

ভরা বর্ষায় কোথায় যাওয়া যায়—শুনেই সিলেটের বন্ধু, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেরে আলম আমন্ত্রণ জানালেন সিলেটে যাওয়ার। জানালেন আবহাওয়াও চমৎকার। ২৮ জুলাই রাতে সিলেটের বাসে উঠলাম স্ত্রী আইরিন আসাদকে নিয়ে। সকালে গিয়ে পৌঁছালাম। থাকার ঠিকানা সিলেট সার্কিট হাউসে। জানালা দিয়ে সুরমা নদীতে চোখ রাখতেই দেখি ঝিরঝিরি বৃষ্টি। মনটা কিছুটা দমে গেলেও আশা ছাড়লাম না। কিছুক্ষণ পরে বৃষ্টি থেমে গেলে মেঘলা আকাশ সঙ্গে নিয়েই যাত্রা শুরু করলাম বিছনাকান্দি আর পাংতুমাই ঝরনার দিকে। সঙ্গী হলেন আরাফাত হোসেন। সিলেট শহর থেকে অটোরিকশায় বিছনাকান্দি যাওয়ার রাস্তাটা এতটাই খারাপ যে কিছুক্ষণ পরপর বিরক্তি লাগছিল। দেড় ঘণ্টার পথ পেরোনোর পরে ট্রলার ভাড়া করার সময় দেখলাম, মাথার ওপর সূর্য! আকাশও বেশ ঝকঝকে। পিয়াইন এলাকা থেকে নৌকা যাত্রা শুরু করল পাংতুমাই ঝরনার দিকে। ভরা বর্ষায় চারদিকে থইথই পানি। পাংতুমাই যাওয়ার পথে পথে রাখাল আর গরু-মহিষের পাল দেখা যায়। কোথাও কোথাও রাজহাঁসের পালও। ক্রমেই পাহাড়ের দিকে এগোতে থাকল নৌকা। দূর থেকে দেখতে কালো পাহাড় আস্তে আস্তে সবুজ হতে থাকল। ঘণ্টা খানেকের পথ শেষে দূর থেকে দেখা যেতে থাকল প...

বেল নাকি তরমুজ? কোনটি খাবেন?

এ সময় তেষ্টা পেলেই পান করছেন বেল না তরমুজের রস।  দুটো ফলই সুস্বাদু।  দেখে নিন কোনটার কী গুণাগুণ। বেল উপকারিতা  ঃ * বেলের শরবত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। * ক্লান্তি দূর করে। * পাইলস রোগের জন্য বেল অনেক উপকারী। * বেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ করে। * নিয়মিত বেল খেলে কোলন ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। * বেলে রয়েছে ভিটামিন এ, যা চোখের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অঙ্গগুলোর পুষ্টি জোগায়। * বেল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। * বেলের শাঁস পিচ্ছিল ধরনের, যা পাকস্থলীর জন্য উপকার। * বেল থেকে পাওয়া বেটা ক্যারোটিন রঞ্জক মানবদেহের টিউমার কোষের বৃদ্ধি রোধ করে। অপকারিতা  ঃ  যাদের থাইরয়েড রয়েছে, তাদের বেল খাওয়া উচিত নয়, এতে ক্ষতি হয়। চিকিৎসকেরা অন্তঃস্বত্বাদেরও অনেক সময় বেল খেতে নিষেধ করেন। খাদ্য উপাদান পানি ৫৪.৯৬-৬১.৫ গ্রাম আমিষ ১.৮-২.৬২ গ্রাম ক্যারোটিন ৫৫ মিলিগ্রাম থায়ামিন ০.১৩ মিলিগ্রাম রিবোফ্লেবিন ১.১৯ মিলিগ্রাম নিয়াসিন ১.১ মিলিগ্রাম টারটারিক অ্যাসিড ২.১১ মিলিগ্রাম ফসফরাস ৫০ ...