Skip to main content

পড়া চাই নানা বই


লেখাপড়া করে যে গাড়িঘোড়া চড়ে সে। কিন্তু সেটা কি কেবল পাঠ্যবই পড়লেই হবে? পাঠ্যবইয়ের বাইরেও চাই বহুমাত্রিক পড়াশোনা। আর সেটা হতে পারে বাংলা বা ইংরেজিসহ যেকোনো ভাষার বই যেকোনো বিষয়ে। আসলে এ যুগে সমাজে টিকে থাকার অন্যতম উপায় হলো তথ্য বা ইনফরমেশনকে নিজের মুষ্টিগত করে ফেলা। যে যত বেশি পড়ে, সে তত বেশি জানে। 


প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা অনুযায়ী আমাদের দেশে ছেলেমেয়েরা তাদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পড়ার তেমন সুযোগ পায় না বললেই চলে। প্রধান কারণ হিসেবে বলা হয়, স্কুলের সময়ের বাইরে গৃহশিক্ষকের হ্যাপা সামলিয়ে বাড়তি পাঠের জন্য সময় নেই। কিন্তু একুশ শতক পাঠ্যবইয়ের শিক্ষাকে বাস্তবজীবনের জ্ঞানের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বলে। এই সমন্বয়টা অনেকখানি পোক্ত হয়, যখন আমরা পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষাকে আমলে নিই। আসলে পাঠ্যবইয়ের বাইরের বই ছেলেমেয়েদের মনে একটা নতুন জগতের দরজা খুলে দেয়। 
পাঠ্যবইয়ের বাইরে পড়ার অনভ্যাসের চিত্র আমাদের দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনেকখানি একই রকম। তবে বিশেষ করে ইংরেজি মাধ্যমের অবস্থাটা একটু ভিন্ন। কারণ, ইংরেজি ভাষাটা তাদের দখলে থাকলেও বাংলা ভাষায় তারা অনর্গল পড়তে বা লিখতে পারে না। সে ক্ষেত্রে বাংলা ভাষায় লেখা বইগুলো তাদের তেমন পড়া হয়ে ওঠে না! তার পরও এ কথা সত্য যে ইংরেজি ভাষার বইও ছেলেমেয়েরা নিয়মিত পড়ে না। ঢাকা শহরের স্বনামধন্য স্কুলের একজন শিক্ষক মন্তব্য করেছেন, স্কুলের পড়াশোনার এত চাপ, ছুটি ছাড়া বাইরের বই পড়ার আসলে তেমন সুযোগ নেই। তাই এ অবস্থার পরিবর্তনে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরই এগিয়ে আসতে হবে। 
বিভিন্ন বই পড়তে হবে এর ছবি

বই পড়াটা আসলে অভ্যাসের বিষয়। ছোটবেলা থেকেই ছেলেমেয়েদের হাতে বই তুলে দিতে পারলে অভ্যাসটা তৈরি হয় খুব সহজেই। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকেরা তাঁদের ছেলেমেয়েদের বইমেলায় নিয়ে যেতে পারেন। নিয়ে যেতে পারেন বিভিন্ন পাঠাগারে। আমার মনে আছে, ছেলেবেলায় একটা রচনা লেখা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করানোর জন্য আমার মা আমাকে পাবলিক লাইব্রেরিতে নিয়ে গিয়েছিলেন, তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। আমার মনে আছে, নির্ধারিত বিষয়ে লেখার জন্য কত বই যে ঘেঁটেছি! এর ফলে যেটা হয়েছে, বই পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে, একই বিষয়ে অনেক জানায় হয়েছিলাম তৃষিত। কিন্তু এমন অনুধাবন অবশ্য সময়ের ব্যাপার। এক দিনের বইমেলায় যাত্রা আর কালেভদ্রে পাঠাগারে ঢুঁ মারাটা অভ্যাস তৈরির জন্য এক আকাশকুসুম ভাবনা। তাই চাই পাঠের নিয়মিত চর্চা। এ ক্ষেত্রে স্কুলের শিক্ষকেরাও একটা বড় রকমের অবদান রাখতে পারেন। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে চিনি, যিনি তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্স শেষে ছেলেমেয়েদের ফলাফল দেখে বই উপহার দিয়ে থাকেন। এমনটা স্কুল-কলেজের শিক্ষকেরা তাঁদের নিজ প্রতিষ্ঠানের ছেলেমেয়েদের জন্য করতে পারেন। এ ছাড়া তাঁরা তাদের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্যও উৎসাহিত করতে পারেন। আর ক্লাসে পড়ানোর সময় বিভিন্ন বইয়ের উদ্ধৃতি দেওয়াটাও ভালো প্রভাব পড়বে। বাস্তবজীবনের প্রেক্ষাপট সামনে রেখে পড়ালে পাঠের বিষয়গুলো আরও উপজীব্য হয়ে ওঠে, এই ধারণাটাও শিক্ষকদের মধ্যে তৈরি হওয়া চাই। শিক্ষা মানেই যে সনদপত্র নয়, শিক্ষা মানে একটা সুন্দর জীবন, যে জীবন পরিচালনায় কখনোই কেবল পাঠ্যবই এককভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না, এই বোধটাকে জাগ্রত করতে হবে। 

আসলে সামাজিক দায়টা আমাদের সবার। বাড়িতে অভিভাবক আর স্কুলে শিক্ষক—এই দুইয়ের চেষ্টার সম্মিলন না ঘটলে পাঠ্যবইয়ের বাইরে পাঠের অভ্যাস তৈরিটা স্বপ্ন হয়েই রয়ে যাবে। তাই সবাই চলুন বই পড়ি, দেশ গড়ি। আর একুশ শতকের চাহিদার আদলে নিজেদের গড়ে তুলি বহুমাত্রিক রূপে। 
লেখক: শিক্ষা গবেষক

Comments

Popular posts from this blog

মাটির পণ্যের খোঁজে

বাংলা নববর্ষের আগে আগে বাঙালিয়ানা আমেজের ছোঁয়া এখন সব জায়গায়। সব জায়গাতেই চোখে পড়ছে বৈশাখের নানা সামগ্রী। পয়লা বৈশাখের দিনটিতে নিজের বাড়ি সাজিয়ে তুলতে পারেন দেশি উপকরণের ছোঁয়ায়। নানা রকম মাটির সরা, শখের হাঁড়ি, বিভিন্ন আকারের মাটির কলসি, ছোট খেলনা, ফুলদানি, সানকি ইত্যাদি এখন প্রায় সব জায়গাতেই পাওয়া যাচ্ছে। মাটির এসব জিনিসপত্রে নকশা আঁকা হয় বর্ণিল রঙে। কোনো হাঁড়িতে ফুল-কল্কে আঁকা, কোনো সরায় মাছ, হাতির ছবি আঁকা—এমন পণ্য ঘরটাকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারে। পয়লা বৈশাখে খাবার পরিবেশন করা যেতে পারে মাটির থালা-বাটিতে। আবার ঘরের কোণে ঠাঁই পেতে পারে মাটির রঙিন কলসি, ফুলদানি ইত্যাদি। এ ছাড়া মাটির গয়না পাওয়া যাচ্ছে এখন। যেখানে পাবেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের উল্টো দিকে রয়েছে মাটির নানা পণ্যের দোকান। সারা বছর এ দোকানগুলোতে কেনাকাটা চললেও বৈশাখের আগে আগে কেনাবেচা বেশি হয়ে থাকে। দোকানগুলোতে মাটির সানকি পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। ২৫০ টাকার মধ্যে মাটির পাতিল পাওয়া যাবে। নকশা আঁকা পাতিলের দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত গড়াতে পারে। কলসির দাম পড়বে ১৫০ থেকে ৩৫০ ...

বসন্ত উৎসব-২০১৭

বসন্তের সমীরণে ফাল্গুনের প্রথম দিনে পুরো ঢাকা শহর সাজে ফাগুন সাজে। হলুদ, কমলা ও বাসন্তী রঙ্গের ছোঁয়া সবার মধ্যে।  যে যার মতো করে এই দিনে ঘুরতে বের হন। কারও সঙ্গে পরিবার বা বন্ধুবান্ধব।  নগরজুড়েও থাকে নানা আয়োজন। প্রতি বছরের মতো এ বছরও বসন্তেকে বরণ করা হবে নানা আয়োজনে। বসন্ত উৎসব জাতীয় বসন্ত উদযাপন পরিষদ দুই দশক ধরে পয়লা ফাল্গুনে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করে আসছে।  বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ফুল ও ছবির প্রদর্শনী, পোশাক, সাজসজ্জা ও দেশজ সংস্কৃতির পরিবেশনার মাধ্যমে বসন্তকে স্বাগত জানানো হয়। ভোরের আলো ফুটতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মূখরিত হতে লাগল হাজার প্রাণের স্পন্দনে।  সূর্যি মামার দেখা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দলে দলে মানুষজন জড়ো হতে লাগল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকল অনুষদের বকুলতলায়। সবাই যে একসঙ্গে বসন্তকে বরণ করবে। বাসন্তী রঙ্গের শাড়িতে মেয়েরা আর ছেলেরা পাঞ্জাবিতে।  দেখলেই মন ভালো যায় এমন দৃশ্য। 

মিষ্টি কুমড়োর যত উপকারিতা

সুগারের পেশেন্ট? এই খেতে ভয়, ওই খাবারে বারণ? চোখ বুজে মিষ্টি কুমড়ো খান। হার্টের রোগ থেকে ডায়াবেটিস, মিষ্টি কুমড়ো কাজ করে ম্যাজিকের মতো। হজমের শক্তি বাড়ায়। ত্বক রাখে টানটান। কমিয়ে দেয় বয়স। মিষ্টি কুমড়োয় রয়েছে প্রচুর ভিটামিন A, ভিটামিন C, ভিটামিন E, বি-কমপ্লেক্স। বিটাক্যারোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, জিঙ্ক, আলফা হাইড্রক্সাইড, আয়রন, ফ্লেভনয়েড, লিউটিন সমৃদ্ধ মিষ্টি কুমড়ো।  ১. ভিটামিন A, বিটাক্যারোটিন চোখের জন্য খুব ভাল।  রেটিনার বিভিন্ন অসুখ প্রতিরোধ করে মিষ্টি কুমড়ো। ২. বিটাক্যারোটিন শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডন্ট। শরীরের ফ্রি রেডিক্যাল ড্যামেজ প্রতিরোধ করে।  বিভিন্ন দূষণ, স্ট্রেস ও খাবারে যেসব কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর উপাদান থাকে, সেগুলোর কারণে ফ্রি রেডিক্যাল ড্যামেজ হতে শুরু করে। শরীরের কোষ নষ্ট হতে শুরু করে। খারাপ কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে।  এসব প্রতিরোধ করে মিষ্টি কুমড়ো। ৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যানসার প্রতিরোধ করে। কোলেস্টেরল কমায়। ধমনীর দেওয়ালে চর্বির স্তর জমতে বাধা দেয়।  ফলে, মিষ্টি কুমড়ো নিয়মিত খেলে হার্টের রোগ প্রতিরোধ করে। ৪. মিষ্...

স্বচ্ছ জলে সবুজ বনে

ভরা বর্ষায় কোথায় যাওয়া যায়—শুনেই সিলেটের বন্ধু, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেরে আলম আমন্ত্রণ জানালেন সিলেটে যাওয়ার। জানালেন আবহাওয়াও চমৎকার। ২৮ জুলাই রাতে সিলেটের বাসে উঠলাম স্ত্রী আইরিন আসাদকে নিয়ে। সকালে গিয়ে পৌঁছালাম। থাকার ঠিকানা সিলেট সার্কিট হাউসে। জানালা দিয়ে সুরমা নদীতে চোখ রাখতেই দেখি ঝিরঝিরি বৃষ্টি। মনটা কিছুটা দমে গেলেও আশা ছাড়লাম না। কিছুক্ষণ পরে বৃষ্টি থেমে গেলে মেঘলা আকাশ সঙ্গে নিয়েই যাত্রা শুরু করলাম বিছনাকান্দি আর পাংতুমাই ঝরনার দিকে। সঙ্গী হলেন আরাফাত হোসেন। সিলেট শহর থেকে অটোরিকশায় বিছনাকান্দি যাওয়ার রাস্তাটা এতটাই খারাপ যে কিছুক্ষণ পরপর বিরক্তি লাগছিল। দেড় ঘণ্টার পথ পেরোনোর পরে ট্রলার ভাড়া করার সময় দেখলাম, মাথার ওপর সূর্য! আকাশও বেশ ঝকঝকে। পিয়াইন এলাকা থেকে নৌকা যাত্রা শুরু করল পাংতুমাই ঝরনার দিকে। ভরা বর্ষায় চারদিকে থইথই পানি। পাংতুমাই যাওয়ার পথে পথে রাখাল আর গরু-মহিষের পাল দেখা যায়। কোথাও কোথাও রাজহাঁসের পালও। ক্রমেই পাহাড়ের দিকে এগোতে থাকল নৌকা। দূর থেকে দেখতে কালো পাহাড় আস্তে আস্তে সবুজ হতে থাকল। ঘণ্টা খানেকের পথ শেষে দূর থেকে দেখা যেতে থাকল প...

বেল নাকি তরমুজ? কোনটি খাবেন?

এ সময় তেষ্টা পেলেই পান করছেন বেল না তরমুজের রস।  দুটো ফলই সুস্বাদু।  দেখে নিন কোনটার কী গুণাগুণ। বেল উপকারিতা  ঃ * বেলের শরবত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। * ক্লান্তি দূর করে। * পাইলস রোগের জন্য বেল অনেক উপকারী। * বেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ করে। * নিয়মিত বেল খেলে কোলন ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। * বেলে রয়েছে ভিটামিন এ, যা চোখের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অঙ্গগুলোর পুষ্টি জোগায়। * বেল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। * বেলের শাঁস পিচ্ছিল ধরনের, যা পাকস্থলীর জন্য উপকার। * বেল থেকে পাওয়া বেটা ক্যারোটিন রঞ্জক মানবদেহের টিউমার কোষের বৃদ্ধি রোধ করে। অপকারিতা  ঃ  যাদের থাইরয়েড রয়েছে, তাদের বেল খাওয়া উচিত নয়, এতে ক্ষতি হয়। চিকিৎসকেরা অন্তঃস্বত্বাদেরও অনেক সময় বেল খেতে নিষেধ করেন। খাদ্য উপাদান পানি ৫৪.৯৬-৬১.৫ গ্রাম আমিষ ১.৮-২.৬২ গ্রাম ক্যারোটিন ৫৫ মিলিগ্রাম থায়ামিন ০.১৩ মিলিগ্রাম রিবোফ্লেবিন ১.১৯ মিলিগ্রাম নিয়াসিন ১.১ মিলিগ্রাম টারটারিক অ্যাসিড ২.১১ মিলিগ্রাম ফসফরাস ৫০ ...