Skip to main content

মুঠোফোনে লিখি বাংলা


এখন অনেকর হাতে আধুনিক সুবিধার মুঠোফোন, যেগুলো স্মার্টফোন নামে পরিচিত। মুঠোফোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এতে মাতৃভাষা বাংলার ব্যবহারও বেড়েছে। এখন ইন্টারনেটে বাংলা যেমন লেখা যায় সহজেই, তেমনি স্মার্টফোনেও বাংলা লেখা ও পড়া দুটিই চলছে।  ইচ্ছে হলে স্মার্টফোন থেকেই সম্পূর্ণ বাংলায় ফেসবুক, টুইটার কিংবা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বার্তা, হালনাগাদ তথ্য দেওয়া যায়।  বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমে কাজটি এখন সম্ভব।

bangla text image

অ্যান্ড্রয়েড
স্মার্টফোনের জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েডচালিত প্রায় সব ধরনের যন্ত্রেই বাংলা লেখা যায়। বিশেষ করে নতুন স্মার্টফোনগুলোতে বাংলা ভাষা যন্ত্রের মধ্যে (বিল্ট-ইন) থাকায় লেখার সময় শুধু কি-বোর্ডটি বাংলায় পরিবর্তন করে নিলেই হয়। তবে সব স্মার্টফোনে এ সুবিধাটি নেই।  হতাশ হওয়ার কারণও নেই অবশ্য।  স্মার্টফোনে বাংলা লেখার জন্য জনপ্রিয় নানা ধরনের কি-বোর্ড অ্যাপ রয়েছে।  গুগল প্লে স্টোর থেকে বিনা মূল্যেই এসব কি-বোর্ড নামিয়ে ব্যবহার করা যায় যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনে। এর মধ্যে একটি জনপ্রিয় কি-বোর্ড ‘রিদ্মিক’ (http://goo.gl/OWvLVo)। বিজ্ঞাপনমুক্ত এ কি-বোর্ডে রয়েছে ফোনেটিক, ইউনিজয়, ন্যাশনাল লে-আউটে বাংলা লেখার সুবিধা। বাংলা কিংবা ইংরেজি যেকোনো ভাষাতেই এটি ব্যবহার করা যায়। কি-বোর্ডটি নামিয়ে সেটিংস থেকে ‘রিদ্মিক’ নির্বাচন করে দিলেই এক কি-বোর্ডেই একাধিক লে-আউট ব্যবহার করে বাংলা লেখা যাবে।

আরেকটি কি-বোর্ড হচ্ছে মায়াবী (http://goo.gl/mkfSZh)।  অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে ফোনেটিক লে-আউটে বাংলা লেখা যায়। এ কি-বোর্ড দিয়ে বাংলা কিংবা ইংরেজি দুই ভাষাতেই স্মার্টফোন ব্যবহার করা যায়।  শুধু কম্পিউটারেই নয় এবং স্মার্টফোনেও বাংলা লেখা যাবে বিজয় সফটওয়্যার ব্যবহার করে। আনন্দ কম্পিউটার্সের প্রধান নির্বাহী মোস্তাফা জব্বার বললেন, ‘আমরা খুবই আনন্দিত যে বিজয় লে-আউটে যেভাবে কম্পিউটারে লেখা হয়, সে একই ব্যবস্থায় স্মার্টফোনেও লেখা যাবে। এ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমাদের কিছুটা দেরি হয়েছে, তবে ব্যবহারকারীরা এখন চাইলে (http://bijoyekushe.net) ঠিকানা থেকে বিজয় কি-বোর্ড নামিয়ে স্মার্টফোনে ব্যবহার করতে পারবেন।’

আইওএস
অ্যাপলের অপারেটিং সিস্টেম আইওএস ৮ সংস্করণে বাংলা যুক্ত হয়েছে। এতে চাইলে বাংলা ভাষা নির্বাচন করেই বাংলা লেখা যায়। অর্থাৎ ইংরেজি ছাড়াও এবারই প্রথম বাংলা ব্যবহার এবং বাংলা কি-বোর্ড যুক্ত হয়েছে আইওএসে। ফলে আইফোন ও আইপ্যাডে সহজেই বাংলা পাওয়া যাবে। অ্যাপল স্টোর থেকে ‘রিদ্মিক’ (lhttp://bit.ly/1DtHwMg) কি-বোর্ড নামিয়ে নিয়েও ব্যবহার করা যাবে। আইওএস ৮ সংস্করণের আগে অ্যাপল তৃতীয় পক্ষের কোনো ভাষা সমর্থন করত না। ফলে আগের আইওএস সংস্করণগুলোতে বাংলা লিখতে চাইলে অভ্রপ্যাড ব্যবহার করা যায়। আই অভ্র www.omicronlab.com/iavro.html) নামিয়ে বাংলা লিখে আইওএস ৮ সংস্করণের আগের সংস্করণগুলোতেও বাংলা লেখা যাবে।

উইন্ডোজ
চন্দ্রবিন্দু (http://bit.ly/1kZuLCs) বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য বাংলা লেখার অ্যাপ। উইন্ডোজ ফোনে ফোনেটিক লে-আউট অথবা ফিক্সড লে-আউট ব্যবহার করে বাংলা লেখা যায়।  ব্যবহার করার আগে ফোনেটিক লে-আউটের অভিজ্ঞতা না থাকলে এ অ্যাপ থেকেই লেখার পদ্ধতি পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ফিক্সড লে-আউটের টেমপ্লেট দেখা যাবে ফিক্সড লে-আউট প্যাটার্ন তালিকায়।  ফায়ারফক্স ফায়ারফক্স অপারেটিং সিস্টেমচালিত স্মার্টফোনে বিল্ট-ইন রয়েছে দুটি বাংলা কি-বোর্ড লে-আউট। অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গেই বাংলা দুটি কি-বোর্ড যুক্ত থাকার ফলে এ ফোনে নির্ধারিত কি-বোর্ড নির্বাচন করে বাংলা লেখা যায়। 



Popular posts from this blog

মাটির পণ্যের খোঁজে

বাংলা নববর্ষের আগে আগে বাঙালিয়ানা আমেজের ছোঁয়া এখন সব জায়গায়। সব জায়গাতেই চোখে পড়ছে বৈশাখের নানা সামগ্রী। পয়লা বৈশাখের দিনটিতে নিজের বাড়ি সাজিয়ে তুলতে পারেন দেশি উপকরণের ছোঁয়ায়। নানা রকম মাটির সরা, শখের হাঁড়ি, বিভিন্ন আকারের মাটির কলসি, ছোট খেলনা, ফুলদানি, সানকি ইত্যাদি এখন প্রায় সব জায়গাতেই পাওয়া যাচ্ছে। মাটির এসব জিনিসপত্রে নকশা আঁকা হয় বর্ণিল রঙে। কোনো হাঁড়িতে ফুল-কল্কে আঁকা, কোনো সরায় মাছ, হাতির ছবি আঁকা—এমন পণ্য ঘরটাকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারে। পয়লা বৈশাখে খাবার পরিবেশন করা যেতে পারে মাটির থালা-বাটিতে। আবার ঘরের কোণে ঠাঁই পেতে পারে মাটির রঙিন কলসি, ফুলদানি ইত্যাদি। এ ছাড়া মাটির গয়না পাওয়া যাচ্ছে এখন। যেখানে পাবেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের উল্টো দিকে রয়েছে মাটির নানা পণ্যের দোকান। সারা বছর এ দোকানগুলোতে কেনাকাটা চললেও বৈশাখের আগে আগে কেনাবেচা বেশি হয়ে থাকে। দোকানগুলোতে মাটির সানকি পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। ২৫০ টাকার মধ্যে মাটির পাতিল পাওয়া যাবে। নকশা আঁকা পাতিলের দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত গড়াতে পারে। কলসির দাম পড়বে ১৫০ থেকে ৩৫০ ...

বসন্ত উৎসব-২০১৭

বসন্তের সমীরণে ফাল্গুনের প্রথম দিনে পুরো ঢাকা শহর সাজে ফাগুন সাজে। হলুদ, কমলা ও বাসন্তী রঙ্গের ছোঁয়া সবার মধ্যে।  যে যার মতো করে এই দিনে ঘুরতে বের হন। কারও সঙ্গে পরিবার বা বন্ধুবান্ধব।  নগরজুড়েও থাকে নানা আয়োজন। প্রতি বছরের মতো এ বছরও বসন্তেকে বরণ করা হবে নানা আয়োজনে। বসন্ত উৎসব জাতীয় বসন্ত উদযাপন পরিষদ দুই দশক ধরে পয়লা ফাল্গুনে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করে আসছে।  বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ফুল ও ছবির প্রদর্শনী, পোশাক, সাজসজ্জা ও দেশজ সংস্কৃতির পরিবেশনার মাধ্যমে বসন্তকে স্বাগত জানানো হয়। ভোরের আলো ফুটতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মূখরিত হতে লাগল হাজার প্রাণের স্পন্দনে।  সূর্যি মামার দেখা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দলে দলে মানুষজন জড়ো হতে লাগল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকল অনুষদের বকুলতলায়। সবাই যে একসঙ্গে বসন্তকে বরণ করবে। বাসন্তী রঙ্গের শাড়িতে মেয়েরা আর ছেলেরা পাঞ্জাবিতে।  দেখলেই মন ভালো যায় এমন দৃশ্য। 

মিষ্টি কুমড়োর যত উপকারিতা

সুগারের পেশেন্ট? এই খেতে ভয়, ওই খাবারে বারণ? চোখ বুজে মিষ্টি কুমড়ো খান। হার্টের রোগ থেকে ডায়াবেটিস, মিষ্টি কুমড়ো কাজ করে ম্যাজিকের মতো। হজমের শক্তি বাড়ায়। ত্বক রাখে টানটান। কমিয়ে দেয় বয়স। মিষ্টি কুমড়োয় রয়েছে প্রচুর ভিটামিন A, ভিটামিন C, ভিটামিন E, বি-কমপ্লেক্স। বিটাক্যারোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, জিঙ্ক, আলফা হাইড্রক্সাইড, আয়রন, ফ্লেভনয়েড, লিউটিন সমৃদ্ধ মিষ্টি কুমড়ো।  ১. ভিটামিন A, বিটাক্যারোটিন চোখের জন্য খুব ভাল।  রেটিনার বিভিন্ন অসুখ প্রতিরোধ করে মিষ্টি কুমড়ো। ২. বিটাক্যারোটিন শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডন্ট। শরীরের ফ্রি রেডিক্যাল ড্যামেজ প্রতিরোধ করে।  বিভিন্ন দূষণ, স্ট্রেস ও খাবারে যেসব কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর উপাদান থাকে, সেগুলোর কারণে ফ্রি রেডিক্যাল ড্যামেজ হতে শুরু করে। শরীরের কোষ নষ্ট হতে শুরু করে। খারাপ কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে।  এসব প্রতিরোধ করে মিষ্টি কুমড়ো। ৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যানসার প্রতিরোধ করে। কোলেস্টেরল কমায়। ধমনীর দেওয়ালে চর্বির স্তর জমতে বাধা দেয়।  ফলে, মিষ্টি কুমড়ো নিয়মিত খেলে হার্টের রোগ প্রতিরোধ করে। ৪. মিষ্...

স্বচ্ছ জলে সবুজ বনে

ভরা বর্ষায় কোথায় যাওয়া যায়—শুনেই সিলেটের বন্ধু, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেরে আলম আমন্ত্রণ জানালেন সিলেটে যাওয়ার। জানালেন আবহাওয়াও চমৎকার। ২৮ জুলাই রাতে সিলেটের বাসে উঠলাম স্ত্রী আইরিন আসাদকে নিয়ে। সকালে গিয়ে পৌঁছালাম। থাকার ঠিকানা সিলেট সার্কিট হাউসে। জানালা দিয়ে সুরমা নদীতে চোখ রাখতেই দেখি ঝিরঝিরি বৃষ্টি। মনটা কিছুটা দমে গেলেও আশা ছাড়লাম না। কিছুক্ষণ পরে বৃষ্টি থেমে গেলে মেঘলা আকাশ সঙ্গে নিয়েই যাত্রা শুরু করলাম বিছনাকান্দি আর পাংতুমাই ঝরনার দিকে। সঙ্গী হলেন আরাফাত হোসেন। সিলেট শহর থেকে অটোরিকশায় বিছনাকান্দি যাওয়ার রাস্তাটা এতটাই খারাপ যে কিছুক্ষণ পরপর বিরক্তি লাগছিল। দেড় ঘণ্টার পথ পেরোনোর পরে ট্রলার ভাড়া করার সময় দেখলাম, মাথার ওপর সূর্য! আকাশও বেশ ঝকঝকে। পিয়াইন এলাকা থেকে নৌকা যাত্রা শুরু করল পাংতুমাই ঝরনার দিকে। ভরা বর্ষায় চারদিকে থইথই পানি। পাংতুমাই যাওয়ার পথে পথে রাখাল আর গরু-মহিষের পাল দেখা যায়। কোথাও কোথাও রাজহাঁসের পালও। ক্রমেই পাহাড়ের দিকে এগোতে থাকল নৌকা। দূর থেকে দেখতে কালো পাহাড় আস্তে আস্তে সবুজ হতে থাকল। ঘণ্টা খানেকের পথ শেষে দূর থেকে দেখা যেতে থাকল প...

বেল নাকি তরমুজ? কোনটি খাবেন?

এ সময় তেষ্টা পেলেই পান করছেন বেল না তরমুজের রস।  দুটো ফলই সুস্বাদু।  দেখে নিন কোনটার কী গুণাগুণ। বেল উপকারিতা  ঃ * বেলের শরবত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। * ক্লান্তি দূর করে। * পাইলস রোগের জন্য বেল অনেক উপকারী। * বেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ করে। * নিয়মিত বেল খেলে কোলন ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। * বেলে রয়েছে ভিটামিন এ, যা চোখের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অঙ্গগুলোর পুষ্টি জোগায়। * বেল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। * বেলের শাঁস পিচ্ছিল ধরনের, যা পাকস্থলীর জন্য উপকার। * বেল থেকে পাওয়া বেটা ক্যারোটিন রঞ্জক মানবদেহের টিউমার কোষের বৃদ্ধি রোধ করে। অপকারিতা  ঃ  যাদের থাইরয়েড রয়েছে, তাদের বেল খাওয়া উচিত নয়, এতে ক্ষতি হয়। চিকিৎসকেরা অন্তঃস্বত্বাদেরও অনেক সময় বেল খেতে নিষেধ করেন। খাদ্য উপাদান পানি ৫৪.৯৬-৬১.৫ গ্রাম আমিষ ১.৮-২.৬২ গ্রাম ক্যারোটিন ৫৫ মিলিগ্রাম থায়ামিন ০.১৩ মিলিগ্রাম রিবোফ্লেবিন ১.১৯ মিলিগ্রাম নিয়াসিন ১.১ মিলিগ্রাম টারটারিক অ্যাসিড ২.১১ মিলিগ্রাম ফসফরাস ৫০ ...