অনেক দিন ধরেই
একটি প্রচলিত ধারণা আমাদের রয়েছে যে ভাত খেলে আমাদের ওজন বাড়ে। এ কারণে অনেকে ভাত এড়িয়ে
চলেন। কিন্তু আসলে তা ঠিক নয়। দেখা যায়, ভাতের সঙ্গে মাছ-মাংস ও হরেক রকম ভর্তা থাকছে।
ভর্তা থাকলে ভাত বেশি খাওয়া হয়। একটু একটু করে নিতে নিতেই অনেক খাওয়া হয়। ভাতে ক্যালরি
বেশি, তার ওপর যুক্ত হয় অন্য খাবারের ক্যালরি।
কেউ কেউ পাঁচ-সাতটা
পদ দিয়ে দুপুরের ও রাতের খাবার খায়। খাবারের পদ যত বেশি হবে ভাত নেওয়ার পরিমাণও ততটাই
বেশি হবে। কিন্তু এটা আসলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এমনকি ভাত যদি অল্পও নেওয়া হয়
তবু সব পদ খেতে হয়। তরকারিতে সাধারণত তেল, লবণ ও মসলার পরিমাণ বেশি থাকায় এসব খাওয়ার
ফলে শরীরের ক্ষতি হয়। এ ব্যাপারে বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ আখতারুন্নাহার
আলো বলেন, প্রতি বেলা দুই-তিন পদ খাবার খাওয়া ভালো। পাঁচ-সাত পদ থাকলে তা দুপুরে ও
রাতে ভাগ করে খেতে হবে। যেমন যদি তরকারি ছয় পদ থাকে তাহলে দুপুরে তিন পদ আর রাতে তিন
পদ খাওয়া উচিত। মাছ-মাংস থাকলে তা অল্প পরিমাণে খেতে পারেন।
প্রতি বেলা
দুই-তিন পদ খাবার খাওয়া ভালো। পাঁচ-সাত পদ থাকলে তা দুপুরে ও রাতে ভাগ করে খেতে হবে। ভর্তা খাওয়ার
ক্ষেত্রে তিনি বলেন, ভর্তায় তেলের পরিমাণটা কম হওয়া উচিত। যেমন ভর্তার ক্ষেত্রে যেকোনো
মাছ অথবা সবজির ভর্তা খাওয়া যেতে পারে। এমন কোনো ভর্তা খাওয়া উচিত নয়, যাতে ক্যালরির
পরিমাণ বেশি। রাতে তেল-মসলাযুক্ত ভারী খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। সেই সঙ্গে অল্প পরিমাণে
খেতে হবে। দুপুরে বেশি খাবার খেলেও রাতে অল্প পরিমাণ খাওয়া উচিত। ভাত খেলেই যে ওজন
বাড়বে এমনটা ঠিক নয়। তবে সাদা চালের চেয়ে লাল চালের স্বাস্থ্যগুণ বেশি। পরিশেষে যে
খাবারটাই খাওয়া হোক সেই খাবারের পুষ্টিগুণ চিন্তা করে খেতে হবে।
সূত্র: দ্য
হেলথ সাইট
